ডিসমেনোরিয়া এবং পরিত্রাণের উপায়

ডিসমেনোরিয়া কি? এটি হয়েছে বোঝার উপায় কি? এর থেকে প্ররিত্রানের উপায় কি?

মাসিকের সময় অল্প পেটে ব্যাথা অনেকেরই হয়ে থাকে। কিন্তু যদি তীব্র ব্যাথা হয় এবং এতে আমাদের প্রতিদিনের কাজের ব্যাঘাত ঘটে, স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দিতে হয় তাহলে আমাদেরকে এই ব্যাথা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। একে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া ( Dysmenorrhea )।

ডিসমেনোরিয়া দুই ধরনের। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি।

প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়াঃ

সাধারণত ১৬-২৪ বছরের মেয়েরা এ সমস্যায় বেশী ভোগেন। এর তেমন সঠিক কোন কারণ নেই। এটি সাধারণত মা হবার আগে অবধি হয়। সাধারণত হরমোনের সমস্যা, মানসিক চাপ, পারিবারিক সমস্যা অথবা পরিবারে মা-বোনদের Dysmenorrhea থাকলেও হতে পারে। 

ব্যাথা সাধারণত পিরিয়ডের কয়েক ঘণ্টা আগে বা পিরিয়ডের সময় থেকে শুরু হয়ে কয়েক ঘণ্টা বা ১-২ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ব্যাথা সাধারণত তলপেটে হয় অনেক সময় কোমরে বা উরুর দিকে যেতে পারে। ব্যাথার সঙ্গে কারো কারো মাথাব্যাথা, বমি, বিষন্নতা, ডাইরিয়া হয়ে থাকে।

করনীয়ঃ 

১। সাধারণত কিশোরীরা এই সমস্যায় বেশী ভোগে তাই সর্বপ্রথম তাদেরকে মানসিকভাবে আশস্ত করতে হবে।

২। পেটে গরম পানির সেঁক নিতে পারে।

৩। হাল্কা ব্যায়াম করতে পারে।

৪। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। যেমন – সবুজ সবজি, মাছ, ডিম, দুধ, বাদাম, কলা ইত্যাদি।

৫। মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে এবং পিরিয়ড হাইজিনের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

৬। গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট বসে থাকতে পারে।

৭। তীব্র ব্যাথা হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাথা কমানোর ওষুধ, হরমোনের ওষুধ লাগতে পারে।    

সেকেন্ডারী ডিসমেনোরিয়াঃ

সাধারণত ৩০ ঊর্ধ্ব মহিলাদের হয়ে থাকে এবং এখানে জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের কোন রোগের কারনেই এই ব্যাথা হয়ে থাকে। পিরিয়ডের ৩-৪ দিন আগেও শুরু হতে পারে আবার পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ার ৩-৪ দিন পরেও ব্যাথা থাকতে পারে।

রোগ ভেদে ব্যাথার স্থায়িত্ব বিভিন্ন রকম হয়। সাধারণত এন্ডোমেট্রিওসিস, এডেনোমাইয়োসিস, জরায়ুতে টিউমার, পেটে ইনফেকশন থাকলে এই ব্যাথা হয়। এই সমস্যাগুলোর কারণে অনেকেই বন্ধ্যাত্ব রোগেও ভোগেন ।

রোগী এবং রোগ ভেদে ওষুধ অথবা অপারেশনের প্রয়োজন হয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়। তাই ডিসমেনোরিয়াকে হেলাফেলা করা যাবে না। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

লিখেছেন- ডঃ অনিমা সরকার, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ওবিএসটি এবং গাইনী ডিপার্টমেন্ট, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *